শনিবার, ১ অক্টোবর ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ১৬ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

বিএনপির আন্দোলন দমানো যাবে না: ফখরুল



 

গুলি-হত্যা-গুম করে বিএনপির আন্দোলন দমানো যাবে না বলে সরকারকে হঁশিয়ার করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘সরকার আজকে জনগণের অধিকারকে হরণ করছে। তারা (সরকার) মনে করছে- গুলি, গুম, হত্যা, খুন ও নির্যাতন করে আন্দোলনকে দমিয়ে দেবে। কিন্তু এসব করে বিএনপির আন্দোলন দমানো যাবে না।’

বৃহস্পতিবার বিকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দলটির ৪৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে র‌্যালিপূর্ব সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ফখরুল এসব কথা বলেন। কার্যালয়ে সামনে ট্রাকের ওপরে অস্থায়ী মঞ্চে বক্তব্য দেন তিনি।

এ সময় নারায়ণগঞ্জে গুলিতে ‘যুবদলকর্মী’ মো. শাওন নিহত ও সারা দেশে বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশে হামলার প্রতিবাদে দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিএনপি মহাসচিব। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, শুক্রবার ঢাকাসহ দেশব্যাপী জেলা ও মহানগর দলীয় কার্যালয়ে কালো পতাকা উত্তোলন এবং কালো ব্যাজ ধারণ, বাদ জুমা নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশে জেলা ও মহানগরে গায়েবানা জানাজা এবং শনিবার ঢাকাসহ দেশব্যাপী জেলা ও মহানগরে বিক্ষোভ সমাবেশ।

ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির যৌথ উদ্যোগে র‌্যালির আয়োজন করা হয়। দুপুর ১টা থেকে র‌্যালিতে যোগ দিতে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমবেত হতে শুরু করেন নেতাকর্মীরা। বড় আকৃতির জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকার পাশাপাশি রঙ-বেরঙের ব্যানার-ফেস্টুনসহ হাতি, ঘোড়ার গাড়ি, নানা বাদ্যযন্ত্র নিয়ে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মীরা এতে অংশ নেন।

জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বড় বড় প্রতিকৃতি হাতে ‘শুভ শুভ শুভদিন, বিএনপির জন্মদিন’, ‘স্বাধীনতার ঘোষক জিয়া, লও লও লও সালাম’ ইত্যাদি শ্লোগান দিতে দেখা যায় কর্মী-সমর্থকদের। র‌্যালি শুরুর আগে পুরো নয়াপল্টন সড়ক ব্যাপক মানুষের উপস্থিতিতে জনসমুদ্রে পরিণত হয়। র‌্যালির সম্মুখভাগ যখন নাইটেঙ্গল মোড়ে তখন মিছিলের শেষ ভাগ ছিল ফকিরাপুল মোড় পর্যন্ত। নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে বিকাল সোয়া ৪টায় শুরু করে র‌্যালিটি নাইটেঙ্গল মোড়, বিজয় নগর সড়ক, পল্টনের মোড় হয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবে গিয়ে শেষ হয়।

এদিকে র‌্যালিকে কেন্দ্র করে দুপুর থেকে নয়াপল্টনের সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে নয়াপল্টন, ফকিরাপুল, মালিবাগ, বেইলি রোড, কাকরাইল, বিজয় নগর সড়কে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। র‌্যালি উপলক্ষে নয়াপল্টনসহ শান্তিনগর পর্যন্ত বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়। এমনকি র‌্যালির অগ্রভাগেও পুলিশ সদস্যদের দেখা যায়।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দেশবাসী এবং বর্তমান সরকারকে জানিয়ে দিতে চাই- বিএনপি এখন সবচেয়ে বড় দল। যে দল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। এই দলকে বিকশিত করেছেন এবং জনগণের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তিনি এখনো গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করছেন। গণতন্ত্রের মাতা দেশনেত্রী খালেদা জিয়া এখন এই ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকারের মিথ্যা মামলায় অন্তরীণ অবস্থায় আছেন, অত্যন্ত অসুস্থ অবস্থায় আছেন।’

‘বর্তমান সরকার অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশ থেকে গণতন্ত্রকে নির্বাসিত করেছে’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘খুব পরিষ্কার করে বলেছি, দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য এই ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারকে সরিয়ে সত্যিকার অর্থেই একটা গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করতে চাই। গণতন্ত্রের মাতা দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে। এই সরকারকে পদত্যাগ করে একটা নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে বাধ্য করব। এই সংসদকে বিলুপ্ত করে দিয়ে নতুন নির্বাচন কমিশনের মধ্যে দিয়ে নতুন সংসদ গঠন করতে বাধ্য করব। নতুন সরকার নির্বাচিত করতে বাধ্য করব।’

মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব আমিনুল হকের সঞ্চালনায় সংক্ষিপ্ত সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন- মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আবদুস সালাম, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী প্রমুখ।

বিএনপি মহাসচিব ছাড়াও র‌্যালিতে অংশ নেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, কেন্দ্রীয় নেতা শামসুজ্জামান দুদু, এজেডএম জাহিদ হোসেন, জয়নুল আবদিন ফারুক, মশিউর রহমান, আবুল খায়ের ভুঁইয়া, রুহুল কবির রিজভী, ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন, খায়রুল কবির খোকন, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, ফজলুল হক মিলন, শ্যামা ওবায়েদ, আবদুস সালাম আজাদসহ কেন্দ্রীয় ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা।