শনিবার, ১ অক্টোবর ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ১৬ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

দোয়ারাবাজারে মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় রাজাকারের নাম,মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিবাদ।



 

দোয়ারাবাজারে মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় রাজাকারের নাম। এ নিয়ে প্রতিবাদী হয়ে ওঠেছেন দোয়ারাবাজার উপজেলার সর্বস্তরের বীরমুক্তিযোদ্ধারা। অবিলম্বে মুক্তিযোদ্ধার তালিকা থেকে কুখ্যাত রাজাকার আলা উদ্দিনের নাম এবং তার সকল সনদ বাতিল করা না হলে উপজেলার সকল মুক্তিযোদ্ধারা আন্দোলনে নামবেন বলে হুশিয়ারি দিয়েছেন। মৃত্যুর পর তারা রাষ্ট্রীয় সম্মান বয়কট এবং আন্দোলনের ডাক দেওয়ার ঘোষণা দেন।গত রোববার দুপুরে ‘উপজেলার বীরমুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযোদ্ধাপ্রজন্ম’র ব্যানারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে বীর মুক্তিযুদ্ধাদের প্রতিবাদ ও মিছিল হয়েছে। পরবর্তীতে তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি দিয়েছেন।প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা বলেন,’১৯৭১ সালে আলা উদ্দিন নামের ওই লোক প্রকাশ্যে দেশবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলো। পাকিস্তানিদের পক্ষে সে এলাকায় লুটতরাজ,অগ্নিসংযোগ, নারকীয় হত্যাকাণ্ডসহ নানা অপকর্মে লিপ্ত ছিলো।দেশ-স্বাধীন হওয়ার পর কিভাবে মুক্তিযুদ্ধাদের তালিকায় তার নাম অন্তর্ভুক্ত হয় তা তাদের বোধগম্য নয়।

উপজেলা আওয়ামীলীগের আহবায়ক ও সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ ইদ্রিস আলী বীরপ্রতীক বলেন, তিন মাস যাবৎ একজন স্বীকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রবীর চন্দ্র সরকারের সম্মানি ভাতা বন্ধ রয়েছে। অথচ একাত্তরে আলা উদ্দিন রাজাকার প্রকাশ্যে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতা করেছে এবং ওই বীর মুক্তিযোদ্ধার পিতা দেশপ্রেমিক গোপাল চন্দ্র সরকারকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। রাজাকার মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পায় কিভাবে এটা আমরা মেনে নিতে পারছি না। ২০০৫ সালে বিশেষ তদারকির মাধ্যমে সেনা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটে তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয় । সেই সময় ও মুক্তিযোদ্ধারা এর তীব্র প্রতিবাদ করেছিলেন। কিন্তু অদৃশ্যভাবে সে রাষ্ট্রীয় সম্মানি ভাতাও পাচ্ছে। অবিলম্বে রাজাকার আলা উদ্দিনের সকল সনদপত্র বাতিল, সরকারি সকল ভাতা ফেরত এবং বীরমুক্তিযোদ্ধা প্রবীর চন্দ্র সরকারের সম্মানি ভাতা চালু করা না হলে দোয়ারাবাজারের মুক্তিযোদ্ধারা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবো।উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমাণ্ডার মোঃ সফর আলী বলেন, আলা উদ্দিন একজন কুখ্যাত রাজাকার। তার নাম মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় থাকবে এটা কখনো হতে পারেনা। দোয়ারাবাজারে এখনো সাড়ে তিন শ’ মুক্তিযোদ্ধা জীবিত আছেন, এটা কোনো ভাবেই হতে দেয়া যায় না। অবিলম্বে মুক্তিযোদ্ধার তালিকা থেকে রাজাকার আলা উদ্দিনের নাম ও সনদ বাতিল করা হোক। অন্যতায় আমরা মুক্তিযোদ্ধারা রাষ্ট্রীয় সম্মান বয়কট করবো।’ প্রতিবাদ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন, বীরমুক্তিযোদ্ধা তাজুল ইসলাম,উমর আলী মাস্টার,নুরুল ইসলাম, জহুর আলী,খোরশেদ আলম,ওয়ারিছ আলী, নসুমিয়া, মফিজ উদ্দিন, আবদুল মালেক, আবদুল খালেক, আবদুস সামাদ, সমাছুদ্দিন, লালমিয়াসহ মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তানবৃন্দ।