শুক্রবার, ১ জুলাই ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ১৭ আষাঢ় ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

পাহাড়ি ঢলে ছাতকে বন্যা, জনজীবন বিপর্যস্ত



ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলে ছাতকের সবত্রই বন্যা দেখা দিয়েছে। বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে জমির কয়েকশত একর বোরো ক্ষেত। ঘর বাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সবজি বাগান, মৎস্য খামার ও গ্রামীণ রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে। মঙ্গলবার (১৭ মে) সকাল পর্যন্ত এখানে সুরমা, পিয়াইন ও চেলা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত ও প্রবল বেগে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘন্টার ব্যবধানে বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতিতে সাধারণ মানুষের ধারণা বন্যা এখানে আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। উপজেলার ১৩ টি ইউনিয়নে লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
উপজেলা সদরের সাথে প্রতিটি ইউনিয়নের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। শহরের রহমতবাগ এলাকায় ছাতক-সিলেট সড়ক তলিয়ে গেছে। পৌর শহরের অলিতে গলিতে বন্যার পানি প্রবেশ করতে দেখা গেছে। বন্যায় প্লাবিত হয়েছে দোলারবাজার, ধারণ বাজার, জাউয়াবাজার, আলীগঞ্জ বাজার, পীরপুর বাজার, কপলা বাজার, বুরাইয়া বাজার, জাহিদপুর বাজার, কামারগাঁও বাজার, লাকেশ্বর বাজার, চৌমোহনী বাজার, হাজীর বাজার, ইসলাম বাজার, মাদ্রাসা বাজার। অনেকেই দোকান ও বাসাবাড়ির মালামাল সরিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেছেন। বন্যার কারনে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ চুনা কারখানা, ক্রাশার মিল বন্ধ। নদীতে নৌকা-কার্গো লোডিং আন লোডিং বন্ধ।
ওই কারনে শত শত শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছে। ভারী বর্ষণের কারণে জন জীবন বিপর্যস্ত। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত সুরমা-মেঘনা স্টেশন ২৬৮, সুরমা নদীর পানি ছাতক পয়েন্টে বিপদসীমার ৩৮ সে.মি উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বন্দী মানুষের জন্য ত্রাণ ও ইউনিয়নে ইউনিয়নে বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র খোলার জন্য দাবী করেছেন উত্তর খুরমা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বিল্লাল আহমদ, জাউয়াবাজার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল হক ও ভাতগাঁও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আওলাদ হোসেন। উপজেলার উত্তর খুরমা, দক্ষিণখুরমা, সিংচাপইড়,ভাতগাঁও, চরমহল্লা, দোলারবাজার, নোয়ারাই, ইসলামপুর, কালারুকা, গোবিন্দগঞ্জ-সৈদেরগাঁও, ছাতক সদর ও ছৈলা আফজালাবাদ ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা বন্যার পানিতে প্লাবিত। নোয়ারাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দেওয়ান পীর আব্দুল খালিক রাজা জানান, বন্যায় তার ইউনিয়নে সবজি বাগান, মৎস্য খামার, ঘরবাড়ি ও জমির বোরো ফসল বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইসলামপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সুফি আলম সুহেল জানান, বন্যার পানিতে ভেসে গেছে ইউনিয়নের নীচু এলাকার অনেক কাঁচা ঘরবাড়ি। আশ্রয়হীন হয়ে পড়ে অনেক মানুষ। পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জসিম উদ্দিন সুমেন বন্যা কবলিত তার ওয়ার্ডের এলাকা পরিদর্শন করে তিনি জানান, বন্যার পানি অনেক বাসাবাড়িতে প্রবেশ করেছে। ছাতক উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মামুনুর রহমান জানান, দুর্যোগ মোকাবেলায় উপজেলা পরিষদ ও প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ছাতক সরকারি হাইস্কুলে সাময়িক বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। জরুরী ভিত্তিতে আরো বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হবে।