বৃহস্পতিবার, ১৯ মে ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনে ড. নাহরীন আহমেদের চিকিৎসা সেবা



 

যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনে জরুরি চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান ড. নাহরীন আহমেদ। পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পালমোনারি এবং ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিন বিভাগের সহকারি অধ্যাপক নাহরীন আহমেদ তাঁর মেডিকেল টিম এবং চিকিৎসাসামগ্রীর সরবরাহ নিয়ে এখন ইউক্রেনের লভিভ শহরে রয়েছেন।

ড. নাহরীন আহমেদ মেডগ্লোবাল নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার পরিচালক। সংস্থাটি দুর্যোগপূর্ণ অঞ্চলে সেবা কার্যক্রম পরিচালিত করে। বাংলাদেশে রোহিঙ্গা সমস্যা শুরু হলে মেডগ্লোবাল সেখানেও কার্যক্রম শুরু করে। শুরু থেকে মিয়ানমার বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের চিকিৎসাসেবা দেয়া ছাড়াও সংস্থাটি সেখানে একটি হাসপাতাল নির্মাণ করছে। ড. নাহরীন আহমেদ সিলেট মেডিকেল কলেজের শহীদ অধ্যাপক ডা. শামসুদ্দিন আহমেদের নাতনি এবং মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ডা. জিয়াউদ্দিন আহমেদের মেয়ে। দেশমাতৃকার জন্য তিনি তাঁর পরিবারের আত্মত্যাগে অনুপ্রাণিত বোধ করেন। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এবং বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মহান আত্মত্যাগে তিনি গর্বিত বলে জানালেন।
ড. নাহরীন আহমেদ অবসরের বেশিরভাগ সময় বাংলাদেশ, ইয়েমেন, ইথিওপিয়া, কলম্বিয়া এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনেক রাজ্যের অনগ্রসর এলাকায় চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত থাকেন। আমেরিকার বেশ কিছু পিছিয়ে পড়া জনপদে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং রোগীর যত্ন বিতরণ ব্যবস্থার উন্নতিতে ড. নাহরীন আহমেদ কাজ করে আসছেন। ড. নাহরীন আহমেদের নেতৃত্ব, নিজেকে মানবতার কাজে উৎসর্গ করা এবং সাহস দেখে আমেরিকায় বসবাসরত বাংলাদেশিরা গর্বিত। আমেরিকায় জন্ম বাংলাদেশি প্রজন্ম ড. নাহরীন আহমেদকে আদর্শ মনে করে অনুপ্রাণিত বোধ করে। ঝুঁকিপূর্ণ যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকায় বাংলাদেশি আমেরিকান ড. নাহরীন আহমেদের কাজ নিয়ে তাঁর বাবা ডা. জিয়াউদ্দিন আহমেদ ও মা ডা. ফাতেমা আহমেদ প্রথম আলোকে জানান, বাবা-মা হিসেবে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় থাকলেও মেয়ের কাজের জন্য তাঁরা গর্বিত। একজন বাংলাদেশি-আমেরিকান বিশ্বের চলমান সঙ্কটে সবচেয়ে বিপর্যস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে, কথাটি উচ্চারণ করলেন তাঁরা। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে ড. নাহরীন আহমেদের দাদা ডা. শামসুদ্দিন আহমেদ চিকিৎসাসেবা দেয়া অবস্থায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর গুলিতে প্রাণ হারান।
সূত্র : আরটিভি