মঙ্গলবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ মাঘ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

বাড়ছে না ভাড়া, অর্ধেক যাত্রী নিয়ে চলবে বাস



 

করোনাভাইরাসের নতুন ঢেউ মোকাবিলায় বিধিনিষেধের কারণে গণপরিবহনে অর্ধেক যাত্রী বহনে বাড়তি ভাড়া গুনতে হবে না বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।

বুধবার (১২ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বনানীতে বিআরটিএ ভবনে এক বৈঠক শেষে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান বিআরটিএ চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ মজুমদার।
বিআরটিএ চেয়ারম্যান বলেন, ভাড়া বৃদ্ধি যৌক্তিক মনে করছি না। বিদ্যমান ভাড়ায় গণপরিবহন চলবে।

তবে বৈঠকে বিধিনিষেধের মধ্যেও সব সিটে যাত্রী বহনের দাবি জানান বাস মালিক সমিতির সভাপতি মশিউর রহমান রাঙ্গা।

তিনি বলেন, প্লেন যেভাবে সব সিটে যাত্রী নেয়, সেভাবে আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে সব সিটে যাত্রী বহনের দাবি জানিয়েছি। চালক-শ্রমিকদের ভ্যাকসিন দেওয়ার জন্য অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি করছি। আমরা কোনোভাবেই ভাড়া বৃদ্ধি করতে চাই না।

সব সিটে যাত্রী বহনের যৌক্তিকতা তুলে ধরে জাতীয় পার্টির এই নেতা বলেন, অর্ধেক যাত্রী নিয়ে গাড়ি চললে সংকট হবে। হঠাৎ করে বাসের সংখ্যাও বাড়ানো সম্ভব হবে না।

গত নভেম্বরে ডিজেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা বাড়ানোর পর বাস ভাড়া এমনিতেই বেড়ে গেছে। সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ২৬ থেকে ২৭ শতাংশ ভাড়া বাড়িয়ে কিলোমিটারপ্রতি যে ভাড়া নির্ধারণ করেছে, ওয়েবিল নামে এক বিশেষ কৌশলে ঢাকায় আদায় হচ্ছে এর দ্বিগুণ থেকে তিন গুণ। এর মধ্যে যখন আবার বিধিনিষেধের কথা আলোচনা হচ্ছিল, তখন মানুষের মধ্যে বাস ভাড়া বাড়ার বিষয়টি নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়।
এর আগে ২০২০ সালের মার্চে দেশে করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ার পর সাধারণ ছুটি ঘোষণা দিয়ে গণপরিবহন বন্ধ করে দেয়া হয়। ৬৬ দিনের সাধারণ ছুটি শেষে গণপরিবহন চালুর সিদ্ধান্ত জানালে অর্ধেক যাত্রী বহন করার নির্দেশ দেয়া হয়। জানানো হয়, নির্ধারিত ভাড়ার ৬০ শতাংশ আদায় করা যাবে।

গত বছরের ৫ এপ্রিল লকডাউন নামে পরিচিতি পাওয়া বিধিনিষেধ আসার আগে আবার বাসে অর্ধেক যাত্রী বহন করতে বলা হয়। তখনও ভাড়া ৬০ শতাংশ বাড়ানো হয়। ৫ এপ্রিল লকডাউন দেয়া হলে গণপরিবহন বন্ধ করে দেয়া হয়।

১ জুলাই থেকে শাটডাউন নামে বিধিনিষেধ দেয়া হলে আবার বন্ধ করে দেয়া হয় গণপরিবহন। পরে এই বিধিনিষেধ শিথিল করা হলে তৃতীয়বারের মতো অর্ধেক যাত্রী তুলে ৬০ শতাংশ ভাড়া আদায়ের সুযোগ দেয়া হয়।