বুধবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

খালেদা জিয়াকে অবিলম্বে বিদেশ পাঠানো হোক সংবাদ সম্মেলনে জাফরুল্লাহ চৌধুরী



 

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অবস্থা অত্যন্ত ক্রিটিক্যাল, তাই আজকেই (গতকাল) উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে পাঠানোর আহ্বান জানাচ্ছি। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী গতকাল রাজধানীর নগর গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবিতে নাগরিক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন।

এর আগে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় খালেদা জিয়াকে দেখতে হাসপাতালে যান ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীসহ রাজনৈতিক এবং নাগরিক সমাজের নেতারা। সেখানে তারা প্রায় দেড় ঘণ্টা অবস্থান করেন। সংবাদ সম্মেলনে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, আমরা গতকাল (মঙ্গলবার) বিকালে খালেদা জিয়াকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলাম; যা দেখেছি সাম্প্রতিককালে এমন মর্মান্তিক ঘটনা আমাদের নজরে আসেনি। খালেদা জিয়া কতক্ষণ, কয় মিনিট, কয় দিন বাঁচবেন সেটা আমি বলতে পারব না। তবে এটা বলতে পারি খালেদা জিয়া চরম ক্রান্তিকাল অবস্থায় আছেন। আজকে তাকে হত্যা করা হচ্ছে। এই হত্যার জন্য আইনমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীও হুকুমের আসামি হবেন।

খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের অবস্থা বর্ণনা করতে গিয়ে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, খালেদা জিয়া অত্যন্ত কঠিন অবস্থার মধ্যে আছেন। যেকোনো মুহূর্তে চলে যেতে পারেন। তার অবস্থা অত্যন্ত ক্রিটিক্যাল। মেডিকেল বোর্ডের ৬ জন চিকিৎসক আমাকে বিস্তারিত বলেছেন। আমি তাদের ফাইলের প্রত্যেকটা লেখা পড়ে দেখেছি। তার মুখ দিয়ে রক্তপাত হচ্ছে। পায়খানার রাস্তা দিয়ে রক্তপাত হচ্ছে। ব্লাডপ্রেসার একশ’র নিচে নেমে এসেছে। আমি গতকাল (মঙ্গলবার) গিয়ে দেখেছি বেগম জিয়াকে রক্ত দেয়া হচ্ছে। আমি ফাইলের প্রত্যেকটা লাইন দেখেছি, কারও মুখের কথায় কিছু বলছি না। সম্ভব হলে আজকে (গতকাল) রাতেই ওনাকে বিদেশে ফ্লাই করানো উচিত। আর না হলে যেকোনো কিছু ঘটে যেতে পারে।

রাষ্ট্রপতির উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি পায়খানা, প্রস্রাব পরীক্ষা করার জন্য দেশের বাইরে যান। রাষ্ট্রপতি হিসেবে আপনার একটা দায়িত্ব আছে। আপনি বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে হাসপাতালে যেতে পারতেন। আইনমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আর কোনো বাড়াবাড়ি কইরেন না। একজন মৃত্যুপথযাত্রীর জীবনটা রক্ষা করেন। এখন আর কোনো ভানুমতির খেলা দেখাইয়েন না। অনুগ্রহ করে আজকেই বেগম খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠিয়ে দেন।’ এ সময় প্রধান বিচারপতিকে হাসপাতালে গিয়ে বেগম খালেদা জিয়াকে দেখে আসারও আহ্বান জানান জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেন, রাষ্ট্রের অস্তিত্ব টেকানোর জন্য হলেও বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। এভাবে যদি বেগম খালেদা জিয়া চিকিৎসার ব্যবস্থা থেকে বঞ্চিত হন তাহলে রাষ্ট্রের ভিত্তি, নাগরিকদের অধিকারের ভিত্তিতে একটা রাষ্ট্র যেভাবে নিজেদের অভ্যন্তরীণ সাংগঠনিক, ঐক্য টিকিয়ে রাখে, তাকে লঙ্ঘন করা হবে। ফলে দেশে গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হবে। দেশে এমন একটা পরিস্থিতি তৈরি হবে যেটা, যুগ যুগ ধরে দেশটা বিভাজনের দিকে নিয়ে যাবে। বাংলাদেশের শাসকসহ দেশের সব প্রতিষ্ঠানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আহ্বান জানাব, বাংলাদেশের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা পাওয়ার যে নাগরিক অধিকার সেটার বাস্তবায়ন করা হোক।

ভাসানী অনুসারী পরিষদের মহাসচিব শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু বলেন, আমরা নাগরিক ও রাজনৈতিক সংবাদ সম্মেলন থেকে সরকারের প্রতি জোরালো দাবি করছি, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই যত দ্রুত সম্ভব সাবেক ৩ বারের প্রধানমন্ত্রী বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ পাঠানোর ব্যবস্থা করুন। নতুবা বিনা চিকিৎসায় তার কিছু হলে এ দায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারকে বহন করতে হবে।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের গণমাধ্যম উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম মিন্টুর সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, ভাসানী অনুসারী পরিষদের মহাসচিব শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সদস্য অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ুম, নাগরিক ঐক্যের সমন্বয়ক শহিদুল্লাহ কায়সার। ভিডিও কনফারেন্সে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা নঈম জাহাঙ্গীর, ভাসানী অনুসারী পরিষদের প্রেসিডিয়াম সদস্য আক্তার হোসেন প্রমুখ।