বুধবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

পাগলা মসজিদের দান-সিন্দুকে ২ কোটি ৩৪ লাখ টাকা



 

ডেইলি ছাতক ডেস্ক::

কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদের দান-সিন্দুক থেকে এবার পাওয়া গেলো ২ কোটি ৩৩ লাখ ৯৩ হাজার টাকা। যা আগের বারের চেয়ে কিছুটা কম। শনিবার (১৯ জুন) বিকেলে কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা মাজিস্ট্রেট (এডিএম) ফরিদা ইয়াসমিন বিষয়টির সত‌্যতা নিশ্চিত করেন।

ফরিদা ইয়াসমিন জানান, সকাল ১০টায় সিন্দুক খোলার পর গণনা শেষে বিকেলে টাকার এই হিসাব পাওয়া যায়। বিপুল পরিমাণ এই নগদ টাকা ছাড়াও বৈদেশিক মুদ্রা ও বেশ কিছু স্বর্ণালঙ্কারও পাওয়া গেছে।

এর আগে সর্বশেষ গত ২৩ জানুয়ারি দান সিন্দুক খোলা হয়েছিল। সেবার ২ কোটি ৩৮ লাখ ৫৫ হাজার ৫৪৫ টাকা পাওয়া যায়। গত বছরের ২২ আগস্ট সিন্দুক খোলা হয়। তখন ১ কোটি ৭৪ লাখ ৮৩ হাজার ৭১ টাকা পাওয়া যায়।

 

সাধারণত তিন মাস পরপর পাগলা মসজিদের দানের সিন্দুক খোলা হয়। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে এবার ৪ মাস ২৬ দিন পর শনিবার (১৯ জুন) খোলা হলো। সকাল ৯টার দিকে জেলা প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে মসজিদের আটটি সিন্দুক খোলা হয়। এরপর দানের টাকা বস্তায় ভরে মসজিদের দোতলায় নিয়ে গণনার কাজ শুরু হয়।

জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ শামীম আলম দুপুরে টাকা গণনার কাজ পরিদর্শন করতে সেখানে যান। এ ছাড়া টাকা গণনা কাজ সার্বক্ষণিক তদারকি করেন কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা মাজিস্ট্রেট (এডিএম) ফরিদা ইয়াসমিন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুলহাস হোসেন সৌরভ, মো. ইব্রাহীম, মাহামুদুল হাসান ও মো. উবায়দুর রহমান সাহেল, পাগলা মসজিদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. শওকত উদ্দিন ভূঞা প্রমুখ।

টাকা গণনার কাজে মসজিদের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। সিন্দুক খোলা কমিটির সদস্যরা ছাড়াও প্রশাসনের কর্মকর্তা, মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্যরা ও সার্বক্ষণিক দায়িত্বরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
দেশের অন্যতম আয়কারী ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃত মসজিদটিকে পাগলা মসজিদ ইসলামী কমপ্লেক্স নামকরণ করা হয়েছে। এ মসজিদের আয় দিয়ে কমপ্লেক্সের বিশাল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়াও মসজিদের আয় থেকে বিভিন্ন সেবামূলক খাতে অর্থ সাহায্য করা হয়।

প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ মসজিদের সিন্দুকে নগদ টাকা-পয়সা ছাড়াও স্বর্ণালঙ্কার দান করেন। কেউ গবাদিপশু, হাঁস-মুরগিসহ বিভিন্ন ধরনের জিনিসপত্রও দান করেন। কথিত আছে, এই মসজিদে দান করলে মনোবাসনা পূর্ণ হয়। এ কারণে দূর-দূরান্ত থেকে অসংখ্য মানুষ এখানে এসে দান করে থাকেন।